ধ্রুপদী রাত - সৌম্য ঘোষ

 



বড় অস্থির আর তৃষ্ণাতুর ঘোরলাগা অনুভুতি নিয়ে করিডোর পার হয়ে লেখার ঘরে ঢুকে কাঁচের স্লাইডিং জানালাটা খুলে দিলাম । ভারী পর্দাটা সরিয়ে দিতেই রাতের স্নিগ্ধ আকাশটা চোখের সামনে খুলে গেলো । মধ্য রাতের ঠান্ডা হাওয়ায় চুল উড়ছে । ছাদবাগান থেকে ফুলের গন্ধ উড়ে আসছে বাতাসে ।

নীচে কাব্যগন্ধী নদী । জ্যোৎস্না স্নাত রাত। চাঁদটা পূর্ব দিকে। গুমোট মেঘগুলো লাজুক ভঙিতে চাঁদের পাশে পাশেই উড়েছে .. যেন, চাঁদ না উঠলে মেঘকুমারীর রূপ খোলে না । নদীর থৈ থৈ জলে নৌকো গুলো অলস বসে আছে । অপেক্ষমান মাঝি সারি সারি নৌকো ভাসাবে ভোরের আলো আকাশ ছুঁলেই । চাঁদের আলোয় অনেকগুলো মানুষ নিজের ঠিকানা খুঁজে নেবে । চাঁদ আর মেঘের প্রণয় রাতভর । ধ্রুপদী শব্দরা ঘুমুতে দেয় না । দারুচিনির দ্বীপে গাঙচিল উড়ে যাওয়া দেখিনি কখনো । যাওয়া হয়নি ভূমধ্যসাগরের সমুদ্র জলে কিংবা বরফ গলা ঠাণ্ডা স্রোতের দেশে অথবা পাখির ঠোঁটে দিনের রঙমেখে মর্ত্যের প্রশান্তি ছুঁয়ে ঘুমে ডুব ডুব খেলা হয় নি। চাঁদের বুকে আলোর জলপ্রপাত দেখি । সাদা ঢেউ ঢেউ ফুল ফোটায় নক্ষত্ররা। অলৌকিক সব গুপ্তধন, রহস্যোপন্যাস রচিত হয়ে যায় । মনের সিন্দুক খুলে শব্দের মুক্তজল রেখে দেই, এখানে সোনালী শোলোক পুড়ে খাঁটি হোক ।
এখন আর পান্ডুর রাত্রিগুলো ক্রান্তিতে ফেলে না । চোখ বুজলেই সব পাখি নীড়ে ফিরে যায় । এমন কোমল হৃদয়ে জানালা গলে মেঘ এলে, শিশুর মতো জড়িয়ে ধরি। জ্যোৎস্নায় বারান্দা ভেসে গেলে উচ্ছ্বসিত আবেগে ভেঙে ফেলি রাতের বর্ণমালা । সমস্ত শেকল ভেঙে, চুম্বনে চুম্বনে অমৃত পান করি, চুমু দেই রাতের শরীরে । তখন শব্দে, বর্ণে, ভাষায়, সোনালী ঘুঙুর বাজে । আসে একেকটা ধ্রুপদী রাত ।
_______________________________
___ সৌম্য ঘোষ। চুঁচুড়া। হুগলী।

Post a Comment

0 Comments